নির্বাচন কমিশনের অসংখ্য সুপারিশ। কিন্তু নির্বাচনে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত টাকার যে খেলা, এটা বন্ধ করবার ব্যাপারে দৃশ্যমান কার্যকারী কোন পদক্ষেপ এই মুহূর্ত পর্যন্ত দেখিনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, আগামী পার্লামেন্ট দৃশ্যত যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে এই আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারি না। বিগত পার্লামেন্টের মতন আগামী পার্লামেন্টও একটা বড় সংখ্যক ধনী এবং কালো টাকার মালিকদের এক ধরনের সন্নিবেশ তৈরি হবে। তার মানে যেজন্য এই গণজাগরণ ও গণঅভ্যুত্থান সেই জায়গাটা পরোক্ষভাবে ব্যর্থ হয়ে যায় কিনা সেই উদ্বেগ রয়ে যায়। ব্যয়ের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের জরুরিভাবে উদ্যোগ নেওয়া দরকার। কীভাবে তারা টাকার খেলাটা তারা বন্ধ করবেন।
আজ শনিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (এফডিসি) কনফারেন্স কক্ষে ‘আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ” নিয়ে ছায়া সংসদের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে তপশিল ঘোষণা করার পর তাদের তত্ত্বাবধানে আসতে পারেন কিনা এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই আরপিও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছে। যেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করেই এই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওটা চূড়ান্ত করা হয়েছে, মানে কিছুটা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আরপিওর কারণে দেখছি প্রার্থীদের জামানত নির্বাচনে জামানতের পরিমাণ এবার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ২৫ লাখ থেকে এবার অনুমান করা হচ্ছে ভোটার অনুপাতে ৩৫ লাখ থেকে প্রায় ৬০ লাখ পর্যন্ত দৃশ্যমান ব্যয়ে উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সমাজের সব গুরুত্বপূর্ণ অংশের জন্য আগামী নির্বাচনকে অবাধ নিরপেক্ষ বিশ্বাসযোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করবার ক্ষেত্রে এটা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। দেশে ভোটকে মানুষ উৎসবের আমেজে বিবেচনা করে। তারপরও দুর্ভাগ্যজনকভাবে আওয়ামী লীগ গত ১৫-১৬ বছর তিনটা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকারকে হরণ করে। ভোটের নামে যে তামাশার নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছিল।
সাইফুল হক বলেন, ভোট হচ্ছে একটা মানুষের সম্মান মর্যাদা এবং সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। গত সরকার তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধের জায়গা তারা মানুষের এই ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া ও গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। পাঁচ বছর পরপর ভোট হবে সাধারণ মানুষ ভোট দেবে তার পছন্দের দল বা প্রার্থীকে। এটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পথ ভোটের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য গত বছর জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান করতে হয়েছে। এজন্য দুই হাজার শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাস্তবে সেই ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করতে হয়েছে।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী নির্বাচনে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করব এরকম চিন্তা না করাও ভালো। কিন্তু এবার ভোটের অধিকারটা প্রয়োগ করতে পারব। একটা নিরপেক্ষ অবাধ গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পারা। ভীতিহীনভাবে চাপ ও হুমকিসহ প্রলোভন বাইরে গিয়ে নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পছন্দের দল বা মার্কায় তারা ভোট প্রদান করবেন।
এই রাজনৈতিক নেতা বলেন, বাংলাদেশে শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকার এখানে গড়ে উঠবে। সেই জায়গা থেকে চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন দলের মনোনয়ন বা টিকিট পাবার জন্য এত ইঁদুর প্রতিযোগিতার কারণটা কি? যে ক্ষমতার সঙ্গে দ্রুত অর্থবিত্ত গড়ে তোলার একটা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে। খুব দ্রুত বৃত্তবান হওয়ার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক আছে। ক্ষমতায় যাওয়াকে অনেকে বেহেশতে থাকার মতন অনেকে বিবেচনা করেন। বাংলাদেশের মতন সমাজে বিরোধী দলে যাওয়াটাকে অনেকে দোযখে পড়ার মতন বিবেচনা করেন। এ কারণের জন্য কেউ আর বিরোধী দলে যেতে চায় না।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিএনপি-জামায়াতের যে তর্ক-বিতর্ক চলছে তাতে আসন্ন নির্বাচন বাধাগ্রস্থ হবে না। তাদের এই মত-দ্বিমতই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য্য। তবে নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে যাতে দুর্নীতির পালাবদল না হয়।’
তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথা রয়েছে। যদি নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও ভোটাররা দায়িত্বশীল আচরণ না করে, তাহলে অতীতের মতো ধানক্ষেতে-পাটখেতে ভোটের বাক্স পাওয়া যেতে পারে। যা আমরা প্রত্যাশা করি না। তবে যারা এবার সরকার গঠন করবে তারা বিরোধী দল ও মতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন বলে বিশ্বাস করি।’
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ান হয়েছে ইডেন মহিলা কলেজ। আর রানার আপ হয়েছে ঢাকা কলেজ। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক জাকির হোসেন লিটন, সাংবাদিক সাইদুর রহমান ও সাংবাদিক মসিউর রহমান খান।
Leave a Reply