চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন যাকে আমরা সালমান শাহ নামে চিনি । ক্ষণজন্মা এই তারা বেঁচে থাকলে আজ ৫১ পেরিয়ে ৫২ বছরে পা দিতেন ।
১৯৭১ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেট শহরে নানা বাড়ি আব এ হায়াত ভবনে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন তিনি ।
১৯৯৩ সালে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। সালমান-মৌসুমী জুটি বেঁধে অভিনয় করেন সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রে। রাতারাতি তারকা বনে যান এই জুটি। সেই থেকে সালমান শাহকেও আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তী সময়ে সালমান শাহ-শাবনূর জুটি ভীষণ আলোচিত হয়। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সবকয়টিই ছিল ব্যবসাসফল । সেগুলোর প্রায় সবগুলোই সুপারহিট। তার অভিনীত ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম অন্তরে অন্তরে, সুজন সখী, স্বপ্নের নায়ক, স্বপ্নের ঠিকানা, চাওয়া থেকে পাওয়া, জীবন সংসার, প্রেম পিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, মায়ের অধিকার, এই ঘর এই সংসার, তোমাকে চাই, আনন্দ অশ্রু, বুকের ভেতর আগুন ইত্যাদি।
কে অপরাধী, তুমি শুধু তুমি, প্রেমের বাজি সহ একাধিক মুভি সালমান শাহ অর্ধেক শুটিং করে মারা যান। পরবর্তীতে প্রেমের বাজি ব্যতীত বাকি সিনেমাগুলি অন্য নায়কদের দিয়ে নতুন করে শুটিং করা হয়। সালমানের অসমাপ্ত সিনেমার মধ্যে একমাত্র প্রেমের বাজি সিনেমার কাজ পরে আর শেষ হয় নি
১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট খালার বান্ধবীর মেয়ে সামিরা হককে বিয়ে করেন সালমান শাহ। দাম্পত্য জীবনের পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর হঠাৎই সালমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এদিন ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসার সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তার দেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য থেকে যায়।
সালমান শাহ তার অভিনয় ও সুদর্শন চেহারার এবং সময়ের তুলনায় এগিয়ে বিভিন্ন স্টাইলের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন।
তার নানান স্টাইল তৎকালীন তরুণ সমাজের মধ্যে ট্রেন্ডে পরিণত হয়ে যায়। যা সময়ের সাথে আজও ভক্তদের মনে আলাদা জায়গা জুড়ে আছে ।
তাকে বাংলাদেশের মানুষ মৃত্যুর ২৬ বছর পরও ভুলতে পারে নি । মানুষের মনে এতটা জায়গা নায়করাজ রাজ্জাক পরবর্তী সময়ে কেউ নিতে পারেননি।
জন্মদিনের শুভেচ্ছা সালমান শাহ্
Leave a Reply